ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় পৌর এলাকার

১৮ মাস পর তহশীলদার আবুল কালামের মদদে আবারও সরকারি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ 

 আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকায় সরকারি খাস জমিতে প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর আবারও বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি একই স্থানে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় প্রশাসনের আগের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার লঞ্চ টার্মিনাল সড়কের ১ নম্বর খতিয়ানের ৩৪ নম্বর দাগভুক্ত সরকারি জমিতে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ওই সময়ে আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল কালাম চৌধুরী সার্ভেয়ার মীর মোহাম্মদ শাহীনের বরাত দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট ভূমি সরকারি খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। এরপর উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. মাসুদ রানা জায়গাটি মেপে সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ করেন। ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা একাধিকবার পরিদর্শন করেন। এরপর প্রায় ১৮ মাস নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি একই স্থানে আবারও বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জমিতে পুনরায় নির্মাণকাজ চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে সরকারি খাস জমি দখলের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ভবনের মালিক ইসমাইল মিয়া বলেন, “গত দুই-আড়াই মাস আগে তহশিলদার ও সার্ভেয়ার এসে জায়গা মেপে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এরপর আমি নির্মাণকাজ শুরু করেছি।”

আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, “স্যার আমাকে কল দিয়ে ভবন নির্মানের জায়গায় গিয়ে তথ্য জানাতে বলছেন,পরবর্তীতে তিনি ঐ জায়গায় গেলেও অদৃশ্য কারনে সাংবাদিকদের কল ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. মাসুদ রানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অপর প্রান্ত থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জসিম চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি জানান তিনি শুনানীতে আছেন, খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন পরবর্তীতে ওনার সাথে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Tag :

আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় পৌর এলাকার

১৮ মাস পর তহশীলদার আবুল কালামের মদদে আবারও সরকারি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ 

আপডেট সময় ০৪:১৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

 আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকায় সরকারি খাস জমিতে প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর আবারও বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি একই স্থানে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় প্রশাসনের আগের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার লঞ্চ টার্মিনাল সড়কের ১ নম্বর খতিয়ানের ৩৪ নম্বর দাগভুক্ত সরকারি জমিতে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ওই সময়ে আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল কালাম চৌধুরী সার্ভেয়ার মীর মোহাম্মদ শাহীনের বরাত দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট ভূমি সরকারি খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। এরপর উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. মাসুদ রানা জায়গাটি মেপে সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ করেন। ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা একাধিকবার পরিদর্শন করেন। এরপর প্রায় ১৮ মাস নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি একই স্থানে আবারও বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জমিতে পুনরায় নির্মাণকাজ চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে সরকারি খাস জমি দখলের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ভবনের মালিক ইসমাইল মিয়া বলেন, “গত দুই-আড়াই মাস আগে তহশিলদার ও সার্ভেয়ার এসে জায়গা মেপে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এরপর আমি নির্মাণকাজ শুরু করেছি।”

আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, “স্যার আমাকে কল দিয়ে ভবন নির্মানের জায়গায় গিয়ে তথ্য জানাতে বলছেন,পরবর্তীতে তিনি ঐ জায়গায় গেলেও অদৃশ্য কারনে সাংবাদিকদের কল ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. মাসুদ রানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অপর প্রান্ত থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জসিম চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি জানান তিনি শুনানীতে আছেন, খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন পরবর্তীতে ওনার সাথে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।