ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
একজন ঘটনাস্থলে আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায়

বাহুবলে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে দুই

বাহুবল উপজেলায় দুই গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৫ জুন সোমবার দুই দফা সংঘর্ষে নিহতের সংখ্য আরও একজন বেড়ে দুজনে দাঁড়িয়েছে। এ সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

দুপুর ও সন্ধ্যায় পৃথক দুটি সময়ে উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের আদিত্যপুর ও আরিছপুর,আব্দাফৌজদা গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আদিত্যপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে সেলু মিয়া (৫৩) এবং একই গ্রামের হেলাল মিয়া (৩৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই গ্রামের মাঝামাঝি একটি কবরস্থানের পাশের চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে সোমবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে আরিছপুর, আব্দাফৌজদা ও কাসেরগাঁও গ্রামের মোশাহিদ মেম্বার পক্ষের সঙ্গে আদিত্যপুর গ্রামের নাসির ও আক্তার পক্ষের মধ্যে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় পক্ষ দেশিয় অস্ত্র, টেটা, রামদা, লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

 

পরে বাহুবল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ৮টার দিকে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়।

তবে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ডুবাঐ বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার হয় এবং সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

সংঘর্ষের একপর্যায়ে সেলু মিয়া গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় কদর আলী (৭০), লুৎফুর রহমান (৩০), আতাউর রহমান (২৫), কুহিনুর (৪১), জাহিদ মিয়া (৫৫), রিমন (১৮), অলফুজ মিয়া (৫০), খলিল মিয়া (৩০), সুহেল মিয়া (৩০), হাবিব মিয়া (২৫), হেলাল মিয়া (৩৭), সিমন (১৮) ও হান্নানসহ (৫০) অন্তত ৪০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পরে রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত হেলাল মিয়াকে সিলেটে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, ঘটনার জেরে স্থানীয়রা প্রতিশোধমূলক হামলা বা লুটপাটের আশঙ্কা করছেন। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনার পর পুলিশ নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে।

Tag :

একজন ঘটনাস্থলে আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায়

বাহুবলে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে দুই

আপডেট সময় ১১:০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বাহুবল উপজেলায় দুই গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৫ জুন সোমবার দুই দফা সংঘর্ষে নিহতের সংখ্য আরও একজন বেড়ে দুজনে দাঁড়িয়েছে। এ সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

দুপুর ও সন্ধ্যায় পৃথক দুটি সময়ে উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের আদিত্যপুর ও আরিছপুর,আব্দাফৌজদা গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আদিত্যপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে সেলু মিয়া (৫৩) এবং একই গ্রামের হেলাল মিয়া (৩৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই গ্রামের মাঝামাঝি একটি কবরস্থানের পাশের চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে সোমবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে আরিছপুর, আব্দাফৌজদা ও কাসেরগাঁও গ্রামের মোশাহিদ মেম্বার পক্ষের সঙ্গে আদিত্যপুর গ্রামের নাসির ও আক্তার পক্ষের মধ্যে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় পক্ষ দেশিয় অস্ত্র, টেটা, রামদা, লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

 

পরে বাহুবল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত ৮টার দিকে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়।

তবে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ডুবাঐ বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার হয় এবং সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

সংঘর্ষের একপর্যায়ে সেলু মিয়া গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় কদর আলী (৭০), লুৎফুর রহমান (৩০), আতাউর রহমান (২৫), কুহিনুর (৪১), জাহিদ মিয়া (৫৫), রিমন (১৮), অলফুজ মিয়া (৫০), খলিল মিয়া (৩০), সুহেল মিয়া (৩০), হাবিব মিয়া (২৫), হেলাল মিয়া (৩৭), সিমন (১৮) ও হান্নানসহ (৫০) অন্তত ৪০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পরে রাত ১১টার দিকে গুরুতর আহত হেলাল মিয়াকে সিলেটে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, ঘটনার জেরে স্থানীয়রা প্রতিশোধমূলক হামলা বা লুটপাটের আশঙ্কা করছেন। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনার পর পুলিশ নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে।